ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভ্যাট নিবন্ধনের কাগজপত্র পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে এক ভ্যাট কর্মকর্তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম তুহিন মিয়া (৩২)। তিনি উপজেলার দুর্গারামপুর এলাকার মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। বুধবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তা এ এস এম সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তুহিন মিয়া ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তার বাড়ি বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভিটি ঝগড়ার চর এলাকায়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরের দিকে ভ্যাট পরিদর্শক এ এস এম সাইফুল ইসলাম নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুর্গারামপুর এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মালিক হাবিবুর রহমান তাকে সন্দেহ করেন এবং পরিচয়পত্র দেখতে চান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইফুল ইসলাম নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। কিন্তু এরপরও তাকে ভুয়া কর্মকর্তা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। হামলায় তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মিয়া বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্যাট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও আহত সবুজ মিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাইফুল ইসলামের হাতে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করা হবে বলেও জানান তিনি।


