স্বত্ব বিক্রিতেই দায় শেষ বিসিবির

খেলা স্পেশাল

দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ, অথচ ১১ আসর পরেও কতটা পেশাদার হতে পেরেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিল? এই প্রশ্ন অবশ্য নিজেরাই সামনে এনেছে তারা। সিলেটে টুর্নামেন্টের ১২তম আসর মাঠে গড়িয়েছে কোনো টাইটেল স্পন্সর ছাড়াই। সাধারণত দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজের ম্যাচেও ব্যবহৃত স্টাম্পের গায়ে স্পন্সর হওয়া প্রতিষ্ঠানের লোগো সাঁটানো থাকে। অথচ গতকাল শুক্রবার দুই ম্যাচেই খেলা হয়েছে ‘বিপিএল টি-টোয়েন্টি’ লেখা স্টাম্প ব্যবহার করে।

তবে কি এত বড় টুর্নামেন্টেও স্পন্সর জোগাড় করতে ব্যর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)? খোঁজ নিয়ে অবশ্য মিলেছে ভিন্ন তথ্য। স্পন্সরের জন্য ক্রিকেট বোর্ড সাধারণত মার্কেটিং এজেন্টের শরণাপন্ন হয়ে থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাতে অর্থাগমও ঘটেছে।
কিন্তু ৪ কোটি টাকায় বিসিবির কাছ থেকে এক বছরের জন্য টাইটেল স্পন্সরশিপ স্বত্ব কেনা ইমপ্রেস-মাত্রা কনসোর্টিয়াম সেটি বিক্রি করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ কারণে বিসিবি স্বত্ব বিক্রি করে দায় সারলেও টাইটেল স্পন্সর ছাড়াই মাঠে গড়িয়েছে বিপিএল।বিসিবির একজন কর্মকর্তা বিপিএলের ১২তম আসরের স্পন্সরশিপ স্বত্ব বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘মাত্রার কাছে স্বত্ব বিক্রি করে দিয়েছি। শুনেছি, ওরা নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান খুঁজছে।

দ্রুতই পেয়ে যাবে হয়তো। তখন দেখতে পাবেন।’টাইটেল স্পন্সর না থাকা নিয়ে একই কথা শোনান বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমানও, ‘টাইটেল স্পন্সরশিপের স্বত্ব আমরা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করেছি। এখন মাত্রা অন্য কাউকে দিয়েছে কি দেয়নি, সেই দায়িত্ব আমাদের নয়। আমরা দেখব বিসিবি টাকাটা পাচ্ছে কি না।

তবে কি স্বত্ব বিক্রি করা পর্যন্তই দায়িত্ব বিসিবির? এবার বেশ কৌশলী পথে হাঁটেন তিনি, ‘দেখবেন, বিশ্বকাপের লোগোতেও কিন্তু স্পন্সরের নাম থাকে না। আমরা আগে সেটি দিয়েছি। এখন স্বত্ব বিক্রির পরও যদি কেউ আগ্রহ না দেখায়, সেটি তো আমাদের দায় নয়।’

বিপিএল ঘিরে প্রশ্ন এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্ট শুরু হলেও এখনো ট্রফি উন্মোচন করতে পারেনি বিসিবি। হয়নি অধিনায়কদের নিয়ে ফটোশুটও। দেরি হলেও আশা দেখালেন টুর্নামেন্টসংশ্লিষ্ট এক সদস্য, ‘ঢাকা পর্বের আগে ট্রফি উন্মোচন হবে। একই সঙ্গে অধিনায়কদের নিয়ে এক ফাঁকে ফটোশুট করব। এটা আগেই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে দলগুলো রাজি হয়নি, কারণ অনেকেরই জার্সি প্রস্তুত ছিল না।’
বিপিএলের ট্রফিতে এবার পরিবর্তন আসছে। শুরুতে এই ট্রফি দেশে প্রস্তুত হলেও মান পছন্দ হয়নি বিসিবির। এ জন্য এবার বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। চ্যাম্পিয়ন দলকে এবার একটি একেবারে দেওয়া হবে বলে এক জোড়া ট্রফিই আনছে আয়োজকরা। বিসিবির মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, এতে খরচ পড়ছে প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।

এদিকে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেওয়া বিসিবি মানসম্মত বিদেশি ক্রিকেটার আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ইফতেখার জানিয়েছিলেন, দলগুলো পারিশ্রমিক দিতে ব্যর্থ হলে সরাসরি চুক্তির ক্রিকেটাররা সব অর্থ পাবেন না; নিলামের ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত মূল্যই দেওয়া হবে। তবে চট্টগ্রামের সরাসরি চুক্তির দুই ক্রিকেটার শেখ মেহেদী হাসান ও তানভীর ইসলাম পুরো অর্থ পাবেন বলে নিশ্চয়তা দেন ইফতেখার, ‘যাদের লিখিত চুক্তি আছে, সেসব খেলোয়াড় ও অফিশিয়ালদের পুরো দায়িত্ব বিসিবিই নেবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *