আদানির সঙ্গে চুক্তির পর্যালোচনায় ৪ মন্ত্রীর বৈঠক

আদানির সঙ্গে চুক্তির পর্যালোচনায় ৪ মন্ত্রীর বৈঠক

জাতীয় স্লাইড

 

ক্ষমতায় বসার তিন দিনের মাথায় বহুল আলোচিত আদানি চুক্তি পর্যালোচনা করতে বসেছে বিএনপি সরকার। চার মন্ত্রীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে কয়েকজন মতামত দিলেও বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।

সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে তার দপ্তরে এই বৈঠক হয়।

সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এবং বিদ্যুৎ খাত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদানির চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে একটা কিছু হতে পারে। আইনমন্ত্রীও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আদানির চুক্তি নিয়ে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এই চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এটি যেহেতু আন্তর্জাতিক চুক্তি, তাই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।’ তিনি বলেন, ‘আদানির চুক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই দেশের স্বার্থে আদানির চুক্তি খতিয়ে দেখবে।

তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তৃতীয় দিনেই কেন আদানি চুক্তি নিয়ে হঠাৎ করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলো, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে রাজি হননি। জানা গেছে, আদানির চুক্তিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় কমিটি তার প্রতিবেদনে বলেছে, আদানি চুক্তিতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, এই চুক্তির পরমুহূর্তে তৎকালীন বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস বিদেশের অ্যাকাউন্টে কয়েক মিলিয়ন ডলার ঘুস নিয়েছেন। তার প্রমাণ জাতীয় কমিটির কাছে আছে।

কমিটির রিপোর্টে আরো বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু কোনো ধরনের কথা ছাড়াই হুট করে এটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়লার দাম, ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে আদানির বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, আদানির এক কর্মকর্তার বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুস লেনদেনের পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় কমিটি এবং আদানি কিভাবে পুরো চুক্তি নিজের মতো করে নিয়েছে তারও কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আদানির সঙ্গে চুক্তির সময়ে (২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯) সাবেক বিদ্যুৎ সচিব এবং আদানি চুক্তির সমঝোতা কমিটির প্রধান আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে দেশে-বিদেশে আদানির কর্মকর্তারা একান্তে দেখা করেছেন। এমনকি আহমেদ কায়কাউসের (পরবর্তী সময় সাবেক মুখ্য সচিব) বিদেশের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের লেনদেনও হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *