যে ২৬ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে

জাতীয় স্লাইড

 

সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। নতুন এই আর্থিক ক্ষমতা আদেশ জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া, অর্থ বিভাগ ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জারি করা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনঃঅর্পণ সংক্রান্ত অফিস স্মারকসহ পরবর্তীতে জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট সব আদেশ বাতিল করে নতুন সমন্বিত অফিস স্মারক জারি করেছে।

জারি করা আদেশে ২৬টি খাতের মধ্যে রয়েছে পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তকরণ, তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য অস্থায়ী পদ সংরক্ষণ, পদের বেতনক্রম, মর্যাদা ও পদবি পরিবর্তন এবং পদ স্থায়ীকরণের সকল প্রস্তাব, যা অর্থ বিভাগ-এ পাঠানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া, মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন সংযুক্ত অধিদপ্তর, অফিস বা সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামোয় যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্তকরণ বা সংশোধন এবং যানবাহন ক্রয় ও প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবও অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে। ওয়ার্কচার্জড ও কন্টিনজেন্ট কর্মচারী সংক্রান্ত সব বিষয়, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণের প্রস্তাব এবং দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তাবও অর্থ বিভাগে পাঠানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া, বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়, অনুমোদিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকা ব্যয় এবং সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত হোক বা না হোক—যেকোনো মঞ্জুরি বা পুনঃউপযোজনের ক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের অনুমোদন আবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাইরে যেকোনো আর্থিক অঙ্গীকার এবং প্রাকস্বাধীনতা কালের আর্থিক দাবি অর্থ বিভাগের বিবেচনার জন্য পাঠাতে হবে। কঠোর শ্রমসাধ্য বা কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১৫ হাজার টাকার বেশি সম্মানী অথবা একই অর্থবছরে একাধিকবার সম্মানী প্রদান করতে হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া বেতন-ভাতা, ভ্রমণ ও বদলি ব্যয়, ভবিষ্যৎ তহবিল, পেনশন ও আনুতোষিক সংক্রান্ত বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা এবং বেতন-ভাতাদি সম্পর্কিত চাকরির শর্ত পরিবর্তনের বিষয়ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে। নন-এনবিআর ট্যাক্স, এনটিআর, ফি, সেস আরোপসহ সরকারি প্রাপ্তির ওপর প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। প্রাথমিক নিয়োগে বিধি-মোতাবেক বর্ধিত বেতন ছাড়া আগাম বর্ধিত বেতন মঞ্জুর এবং বাজেট বরাদ্দবহির্ভূত অনুদান মঞ্জুরের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।

তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে, ১৫ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম উত্তোলন, ৫ লাখ টাকার বেশি মনিহারি দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে ক্রয় এবং সভা, কনফারেন্স বা প্রশিক্ষণে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আপ্যায়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। জালিয়াতি বা গাফিলতির কারণে ৫ লাখ টাকার বেশি অনাদেয় ক্ষতি অবলোপন, সরকারি কর্মচারীকে প্রদত্ত অনাদেয় ঋণ বা সুদ অবলোপন অর্থ বিভাগের অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না। বিদেশ সফরে কেবিনেট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ডলারের সীমা অতিক্রম করলে তা অর্থ বিভাগের বিবেচনায় নিতে হবে। আর্থিক সংশ্লিষ্টযুক্ত বিষয়াবলি বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় বা আন্তর্জাতিক চুক্তি, আমদানি-রপ্তানি নীতি, বিনিয়োগ নীতি, মূল্য ও শ্রমনীতি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি, শুল্কনীতি এবং বিভিন্ন তহবিল নির্ধারণ অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রণীত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *