ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন থমকে আছে, নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

৬ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেখা নেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ড্রোন হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে না আসায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ধারণা, মোজতবা খামেনির এই ‘অনুপস্থিতি’ বা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকাই আলোচনার প্রধান অন্তরায়। খবর এনডিটিভির।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছেন। তার পায়ে ফ্র্যাকচার, বাম চোখে আঘাত এবং মুখে ক্ষত রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে একে নিরাপত্তা জনিত কারণে ‘গোপন রাখা’ বলে দাবি করা হলেও, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে ইরানি নেতৃত্বের ভেতরে এখন চরম সমন্বয়হীনতা ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

এদিকে, শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজি (৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ) ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি। এই মজুত দিয়ে ৮ থেকে ১২টি বোমা বানানো সম্ভব। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো ক্ষমতা এখন কার হাতে, তা নিয়েই সন্দিহান ওয়াশিংটন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, মোজতবা খামেনি সরাসরি কোনো ভাষণ না দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক ভিডিও এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যুক্ত থাকছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এটি মূলত একটি ‘কভার’ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে আলোচকরা কোনো কঠিন সিদ্ধান্তে না পৌঁছে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে পারেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলী ভায়েজ বলেন, সিস্টেমটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মোজতবার নাম ব্যবহার করছে যাতে আলোচনার যেকোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য অভ্যন্তরীণ সমালোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তার বাবার মতো তিনি নিয়মিত সরাসরি কথা বলছেন না, যা একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই শান্তি আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মোজতবা খামেনি নিজে সামনে না আসা পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *