ইয়েমেনে শুক্রবার বিমান হামলায় দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী সাত যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটির এক কর্মকর্তা। আমিরাত–সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) দ্রুত অগ্রযাত্রার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পাল্টা হামলা চালায়। এর মধ্যেই আবুধাবি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
গত মাসে হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর থেকে এবারই প্রথম এসটিসির হতাহতের খবর এলো।
বছরের পর বছর ইয়েমেনের সরকার–নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিপরীতমুখী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে সৌদি আরব ও আমিরাত।
এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর উপস্থিতি শেষ করেছে আমিরাত।’ তিনি আরো বলেন, টেকসই শান্তির একমাত্র পথ হলো ‘সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমিতকরণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত প্রক্রিয়াগুলো।
একই এলাকায় পরবর্তী সময়ে আরো কয়েকটি স্থানে হামলা হয় বলে তিনি জানান।
এসটিসির এক সামরিক সূত্র ও পৃথক প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অভিযানের শুরুতেই দখলকৃত বড় শহর সাইউনে বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি।
এই হামলাগুলো আসে অল্প সময় পর, যখন সৌদি–সমর্থিত বাহিনী ঘোষণা দেয়—তারা হাদ্রামাউতে সামরিক ঘাঁটিগুলো ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে অভিযান শুরু করেছে।
সাবা নেট সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে হাদ্রামাউতের গভর্নর এবং প্রদেশের সৌদি–সমর্থিত স্থানীয় বাহিনীর নেতা সালেম আল–খানবাশি বলেন, ‘এই অভিযান যুদ্ধের ঘোষণা নয়।
তিনি যোগ করেন, ‘এই অভিযান কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়—বরং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সামরিক ঘাঁটিগুলোর হস্তান্তরই এর লক্ষ্য।’
সৌদি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, হামলাগুলো চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট—যার সদস্য হিসেবে নামমাত্র আমিরাতও রয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের উত্তরে ইরান–সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এই জোট গঠিত হয়েছিল।
সৌদি সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র সতর্ক করে বলেন, ‘এসটিসি দুই প্রদেশ থেকে সরে না আসা পর্যন্ত এটি থামবে না।’
সৌদি সীমান্ত লাগোয়া সম্পদসমৃদ্ধ হাদ্রামাউত এবং ওমান সীমান্তবর্তী মাহরা প্রদেশের বড় অংশ গত মাসে দখল করেছিল এসটিসি।

