দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ছয় শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২০৬।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ১৯১ শিশু। এর মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের হাসপাতালগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এতে চলতি বছর মোট আক্রান্তের তথ্য জানা যায়নি। এ ছাড়া হঠাৎ প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্ত রোগীর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে এখনো নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ৩৪ জনের।
উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৭২ জনের। শনাক্ত হাম রোগী তিন হাজার ৬৫ জন। উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ২৯ হাজার ৩৫২ জন। এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ হাজার ৪৯৬ জন।
গতকাল জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন বলেন, ‘ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
তারা আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও তাদের আমরা আবার বুস্টার টিকার আওতায় আনছি।’
এ সময় তিনি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। কর্মশালায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে হামের বর্তমান পরিস্থিতি, সংক্রমণের ঝুঁকি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান বলেন, দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং এতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজারের (ডাব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর ড. বিনোদ কুমার বুড়া বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে সবাইকে টিকাদানে উৎসাহিত করেন। ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হামের বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের অঙ্গীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


