চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, ক্ষতিগ্রস্ত ২৮০০ কনটেইনার

অর্থনীতি স্লাইড

 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা দুটি কনটেইনারবাহী জাহাজের সংঘর্ষে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজ দুটি। এর একটি বিশ্বখ্যাত শিপিং কোম্পানি ‘মায়ার্সক’-এর এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান এইচ আর লাইনের মালিকানাধীন ‘এইচ আর তুরাগ’। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১ মে) জাহাজ দুটি জেটিতে ভেড়ার কথা ছিল।

তবে একইদিন সংঘর্ষে জাহাজ দুটির মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ দুটিকে জেটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে সেগুলো বহির্নোঙরেই অপেক্ষমাণ রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জাহাজের সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি চট্টগ্রাম বন্দরের পাইল বুঝে নেওয়ার আগে বহির্নোঙরে ঘেটেছে। তাই এই বিষয়ে আমরা কনসান না।’

নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কমিটির সদস্যরা এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে চলাচলের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজ দুটি থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ না হলে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *