দেশের চলমান জ্বালানি সমস্যাসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের যেকোনো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে বলেন, রাজনৈতিক আদর্শে মতপার্থক্য থাকলেও দেশ ও মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সব দলই এখন একমত। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বা তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় উন্মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা অবশ্যই বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাব। তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং বাস্তবায়নের সুযোগ থাকলে সরকার তা অবশ্যই করবে।’
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের চিত্র তুলে ধরে জানান, তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হিটস্ট্রোকে ইতিমধ্যে তিনজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি একটা সংকট। এই সংকট সরকারের তৈরি নয়। কিন্তু চাহিদা ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই জায়গায় আমরা সবাই ওপেন হার্ট নিয়ে বসতে পারলে, কথা বলতে পারলে কমন প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাড্রেস করতে পারলে মানুষ একটা আস্থার জায়গা পেত।’
এই মানবিক ও জাতীয় সংকট মোকাবিলায় একটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে যৌথ কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি। বিরোধী দল তাদের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাও সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কথার ওয়েট থাকতে হবে। একেকদিন একেক কথা বললে জনগণ বিশ্বাস করবে না। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারলে গণতন্ত্র সুসংহত হবে। আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশ ভালো হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল, বিরোধী দল বড় কথা নয়, বড় কথা এই সংসদ। বয়স যাই হোক, আমরা সব সাদা। আমার মতো ভ্রু সাদা লোক এখানে নেই। আসুন ঠেলা ধাক্কার রাজনীতি বাদ দিই। রংপুরের ঝাঁঝালো মরিচের কথা ভুলে আসুন সুন্দরবনের মধু ঠোঁটে লাগাই।’
এর আগে অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেওয়ার সময় জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সংসদকে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সংসদের ভেতরেই সমাধান খোঁজা উচিত এবং বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।


