গ্রিনল্যান্ড দখলে চাই: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

দ্য মেইল অন সানডের তথ্য মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য একটি সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বিশেষ বাহিনীর কমান্ডারদের। তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। সূত্রগুলো বলছে, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের ‘সাফল্য’ ট্রাম্পকে ঘিরে থাকা কট্টর নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীকে আরো সাহসী করে তুলেছে। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার।

তাঁদের দাবি, রাশিয়া বা চীন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই দ্রুত গ্রিনল্যান্ড দখল করা উচিত। ব্রিটিশ কূটনীতিকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই আগ্রহের পেছনে আরেকটি বড় কারণ রয়েছে। তা হলো এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে ভোটারদের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া। ওই নির্বাচনে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।

তবে এমন একটি নাটকীয় পদক্ষেপ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ট্রাম্পকে সরাসরি সংঘাতে ফেলবে এবং কার্যত ন্যাটোর ভাঙনের পথ খুলে দেবে।

সূত্র অনুযায়ী, ট্রাম্প যৌথ বিশেষ অভিযান কমান্ডকে আগ্রাসনের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেছেন। কিন্তু জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এই নির্দেশের বিরোধিতা করছে। তাঁদের যুক্তি, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে এবং কংগ্রেসের সমর্থনও পাবে না।

একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে তাঁরা কম বিতর্কিত কিছু প্রস্তাব সামনে আনছেন। যেমন রাশিয়ার তথাকথিত ‘ঘোস্ট শিপ’ আটকানো। এগুলো হচ্ছে মস্কোর পরিচালিত শত শত গোপন জাহাজের নেটওয়ার্ক, যেগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলে। অথবা ইরানে হামলার পরিকল্পনার কথাও তোলা হচ্ছে। কূটনীতিকরা একটি সম্ভাব্য ‘উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি’ নিয়ে যুদ্ধাভ্যাস চালিয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প সামরিক শক্তি বা ‘রাজনৈতিক চাপ’ ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ডেনমার্কের সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারেন।

একটি কূটনৈতিক বার্তায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিকে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে, ‘এর পরিণতি হতে পারে ন্যাটোর ভেতর থেকেই ধ্বংস।’ ওই বার্তায় আরো বলা হয়েছে, কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করেন, ট্রাম্পের আশপাশের কট্টর মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (এমএজিএ) গোষ্ঠীর প্রকৃত লক্ষ্যই এটি। যেহেতু কংগ্রেস ট্রাম্পকে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে দেবে না, তাই গ্রিনল্যান্ড দখল ইউরোপীয়দের বাধ্য করতে পারে ন্যাটো ছাড়তে। যদি ট্রাম্প ন্যাটোর অবসান চান, তবে এটাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ।

সূত্র : ডেইলি মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *