তৃতীয় ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা, ফিরেছেন তানজিম সাকিব

খেলা স্পেশাল

 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। আগের দুই ওয়ানডের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েননি কেউই।

বিপিএলের পরপরই পিঠে ইনজুরিতে পড়েন তানজিম। ওই চোটের কারণে ছিলেন না পাকিস্তান সিরিজে। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের আগেই অনেকটা ফিট থাকলেও প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে রাখা হয়নি তাকে। ফিরলেন তৃতীয় ওয়ানডেতে।

শেষ ওয়ানডেতে টাইগারদের স্কোয়াড:

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা এবং তানজিম হাসান সাকিব।

এর আগে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছিল ২৬ রানে। তবে পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা। সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরলো স্বাগতিকরা।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার (২০ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলায় টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। শুরুটা দেখেশুনে করলেও পঞ্চাশের আগেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় নিউজিল্যান্ড।

কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদ রানা। দলীয় ২৫ রানের মাথায় ওপেনার হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ বলে ১৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

নবম ওভারে বল করে এসে আবারও উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। এবার তার শিকার উইল ইয়ং। নাজমুল হোসেন শান্ত’র হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে মাত্র ২ রান। টম ল্যাথামও এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ৩৫ বল খেলে মাত্র ১৪ রান করেই সৌম্য সরকারের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন মুহাম্মদ আব্বাস ও নিক কেলি। তারা দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৬ বলে ৫৬ রান। তবে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় মুহাম্মদ আব্বাসকে লিটনের ক্যাচ বানান নাহিদ। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ১৯ রান।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালান ডিন ফক্সক্রফট ও নিক কেলি। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি শরিফুল ইসলাম। ১০২ বলে ৮৩ রান করা নিক কেলিকে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান বাঁহাতি এই পেসার।

এরপর আর কেউই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল ডিন ফক্সক্রফট, নাথান স্মিথ ও ব্লাইর ট্রিকনার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ রানা। সমান রান দিয়ে ২ উইকেট তোলেন শরিফুল ইসলাম। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ এবং রিশাদ হোসেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে নাথান স্মিথের বলটা ঠেকাতে ব্যর্থ হন সাইফ হাসান। ৬ বলে ৮ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

এরপর তিন নম্বরে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে জুটি গড়েন সৌম্য সরকার, তবে তার ইনিংসও বড় হয়নি। ১১ বলে ৮ রান করে দলীয় ২১ রানের সময় আউট হন তিনি।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে জুটি বাঁধেন তানজিদ হাসান তামিম। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তারা। এর মধ্যে তানজিদ ছিলেন তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক— চমৎকার সব বাউন্ডারিতে পৌঁছে যান ব্যক্তিগত অর্ধশতকে।

শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফাঁক পেলেই মেরেছেন বাউন্ডারি, আর অপর প্রান্তে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজনের দারুণ সমন্বয়ে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ১১০ বলে ১২০ রান। ঝলমলে ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ৭৬ রান করে শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন তানজিদ। এরপর ক্রিজে আসেন লিটন দাস, তবে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি তিনি; ১১ বলে ৭ রান করে ফিরে যান। ততক্ষণে অবশ্য দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।

ইনিংসের শেষভাগে শান্তর সঙ্গে যোগ দেন তাওহিদ হৃদয়। দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যেতে থাকেন শান্ত, তুলে নেন নিজের অর্ধশতক। অন্যদিকে হৃদয়ও ধীরস্থিরভাবে খেলতে থাকেন, নিশ্চিত জয়ের পথে দলকে এগিয়ে নেন।

অর্ধশতক পূর্ণ করার পর শারীরিক অস্বস্তিতে পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ক্র্যাম্পের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার জায়গায় ক্রিজে নামেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে সহজ ছন্দে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন মিরাজ।

হৃদয়-মিরাজ জুটি কোনো চাপ না নিয়েই ধীরে ধীরে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৮৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের স্বচ্ছন্দ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। হৃদয় ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন, আর মিরাজ করেন ২৫ বলে ৮ রান। এর আগে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার আগে শান্ত খেলেছিলেন ৭১ বলে ৫০ রানের কার্যকরী ইনিংস।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেডন লেনক্স নেন দুটি উইকেট। এছাড়া নাথান স্মিথ এবং উইল ও’রউরকে একটি করে উইকেট শিকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *