মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দুই দফা অস্ত্রোপচার, শয্যাপাশে প্রধানমন্ত্রী

দুই দফা ব্রেন সার্জারি মির্জা আব্বাসের, পাশে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় স্লাইড

 

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক এই মন্ত্রীকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গতকাল বিকেল ৩টার পর তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার আগেই প্রথম দফায় অপারেশন হয়। এরপর তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর আবার দ্বিতীয় দফায় তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর অসুস্থতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ব্যবস্থা দ্রুত করার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত বুধবার ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড সবকিছু পর্যালোচনা করে মির্জা আব্বাসের

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সকালে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়।

সেই প্রতিবেদনে অবস্থার অবনতি ধরা পড়ায় দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিক্যাল বোর্ড বসে। সবকিছু পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই।

ডা. রফিকুল ইসলাম আরো জানিয়েছেন, মেডিক্যাল বোর্ডে দেশের প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞরা আছেন। তাঁদের মধ্যে ডা. আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ, শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন। জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় এয়ারকেয়ারের অ্যাম্বুলেন্স মির্জা আব্বাসকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। সেখানে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিউরো সায়েন্স বিভাগে তাঁকে ভর্তি করানো হতো। কিন্তু এভারকেয়ার হাসপাতালে অপারেশন সম্পন্ন হওয়ায় তাঁকে এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না।

সাবেক এই মন্ত্রীর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

এদিকে মির্জা আব্বাসের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস সাহেব অনেক অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আছেন। উনার অস্ত্রোপচার হবে, আমরা ইফতারের আগমুহূর্তে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তাঁকে যেন সুস্থতা দান করেন। যাতে উনি বাংলাদেশের মানুষের খেদমত করতে পারেন।’

গতকাল সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি।

তা ছাড়া সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মতো একজন অভিজ্ঞ ও সাহসী নেতার সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

গতকাল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মির্জা আব্বাস এ দেশের একজন জনপ্রিয় নেতা এবং রাজপথের লড়াকু সৈনিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *