মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: শাহজালালে ১৩ দিনে ৪২৩ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: শাহজালালে ১৩ দিনে ৪২৩ ফ্লাইট বাতিল

জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন স্লাইড

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–আমেরিকা উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে একের পর এক দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গত ১৩ দিনে রাজধানীর এই প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৪২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজারো যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এবং অনেকের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো। আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে ওইসব দেশের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এসব দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একদিনেই ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরদিন ১ মার্চ বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। ২ মার্চ বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬টিতে, যা এই সময়ের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বাতিলের ঘটনা। এরপর ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

পরবর্তী দিনগুলোতেও বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ৭ মার্চ বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট এবং ৮ মার্চও একই সংখ্যক অর্থাৎ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৯ মার্চ বাতিল হয় ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি এবং ১১ মার্চ ২৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে না পেরে বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়।

এছাড়া ১২ মার্চ রাত ১২টার (০০০০ এলটি) পর আরও ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিন যেসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার সময় আকাশসীমা ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ বা সীমিত করে দেয়, যার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ওপর পড়ে।

এদিকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেক যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারছেন না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশী এবং ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অনেক যাত্রীকে তাদের টিকিট পুনঃনির্ধারণ করতে হচ্ছে বা বিকল্প রুটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এয়ারলাইন্সগুলো প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আকাশসীমা খুলে দেওয়া হলে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে ধীরে ধীরে ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এয়ারলাইন্সগুলো বিকল্প সময়সূচি নির্ধারণ, টিকিট রি-শিডিউল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলো আবার নিয়মিতভাবে পরিচালনা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *