চুক্তি সইয়ের সময় যা বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক স্পেশাল

দীর্ঘ দেন দরবারের পর অবশেষে ইরান যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) রাতে ফ্রান্সের প্যারিসের কাছে প্যালেস অব ভার্সাইয়ে এক নৈশভোজ চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিপত্রে সই করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে সইয়ের সময় দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সহজ ছিল না।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে এ মন্তব্য করতে দেখা যায়। ম্যাক্রোঁ ওই নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে আতিথ্য দেন।

ভিডিওটির সঙ্গে দেয়া পোস্টে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘১৪ দফার এই পরিকল্পনা স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।’ তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যও কমে আসবে।

ইরানের সাথে এই ঐতিহাসিক চুক্তির পরও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এখনই সেনা সরাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। প্যারিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, চুক্তি হলেও মার্কিন বাহিনী আরও কিছুদিন ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করার চেয়ে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মজুত ধ্বংস করা অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই চুক্তিতে সই করেছেন।

এদিকে চুক্তি সই হলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, এই শান্তি চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না। শত্রুপক্ষ যুক্তির ভাষা না বুঝলে তেহরান আবারও শক্তির ভাষায় জবাব দেবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *