বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান দেশের প্রবাসী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আজ প্রবাসীরা। তাদের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও দেশের প্রতি ভালোবাসার ফলেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীলতা পাচ্ছে। তিনি প্রবাসীদের এই অসামান্য অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের যাত্রাপথে যেন কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, দালালচক্রের প্রতারণা বা অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশি দেশের অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে সরকারিভাবে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় যুগোপযোগী সংস্কার আনার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জার্মানি, রোমানিয়া, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; বরং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, পেশাজীবী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন।
অনুষ্ঠানটি ‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ ও ‘সিরাজগঞ্জ ক্লাব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন, মতবিনিময় এবং বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি (সিরাজগঞ্জ-৪), তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) বুলবুল আহম্মেদ, জার্মানি প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার নাইমুর রহমান নাইম (সঞ্চালক), ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ (আয়োজক, কানেক্ট বাংলাদেশ ও সিরাজগঞ্জ ক্লাব), বিজিএমইএর হেড অব ট্রেড অ্যান্ড ইভেন্টস শাহরিয়ার ফাহিম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফজলুল হক, রোমানিয়া প্রবাসী হাসু, কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার, লন্ডন প্রবাসী ডা. মান্না, ডা. শাহিন, শামীম খান, মির্জা, আনিসুর রহমান (এমটিবি, লন্ডন), জোবায়ের, পর্তুগাল প্রবাসী এহসান ও মুতাফিজ, মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজান ও রিজান এবং সুজন (শোভন গার্মেন্টস)।
আলোচনায় প্রবাসীদের নানা বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় উঠে আসে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বিদেশে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা জোরদার, দূতাবাসগুলোর সেবার মান উন্নয়ন এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে আরও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ শুধু পরিবার নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই তাদের স্বার্থরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে এমপি রফিকুল ইসলাম খান জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য দেশের সকল প্রবাসী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রবাসীরা আমাদের গর্ব। তাদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় আমরা সবসময় সচেষ্ট থাকব।”


