পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের নাম ‘মা’। জীবনের সব ক্লান্তি আর ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের মুখটাই এনে দেয় শান্তি। ছোটপর্দায় সেই মায়ের মমতা, শাসন আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে জীবন্ত করে তুলেছেন কিছু অসাধারণ অভিনেত্রী। বিশ্ব মা দিবসে স্মরণ করা যাক বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এমন কয়েকজন গুণী অভিনেত্রীকে, যারা নিজেদের অভিনয়শৈলী দিয়ে ‘মা’ চরিত্রটিকে করে তুলেছেন আইকনিক।
ডলি জহুর নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডলি জহুর মানেই পর্দার সেই চিরাচরিত মমতাময়ী মা। তার কণ্ঠের সেই বিশেষ টান আর মায়াভরা চাহনি দর্শকদের চোখের কোণে পানি আনতে বাধ্য। কখনো অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত মা, আবার কখনো দাপুটে গৃহিণী; সবখানেই তিনি সফল।
শর্মিলী আহমেদ ছিলেন বাংলা নাটকের এক অবিসংবাদিত মা। তার মায়াভরা মুখ আর শান্ত কণ্ঠস্বর যেন মা শব্দের সমার্থক ছিল। শত শত নাটকে তিনি যে আভিজাত্য আর স্নেহের সাথে মা চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আজ এক দীর্ঘ ইতিহাস। আজ তিনি নেই, কিন্তু পর্দার সেই মায়াভরা মায়ের ছবি আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে।
মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও যে এক ধরনের গাম্ভীর্য আর আভিজাত্য বজায় রাখা যায়, তার প্রমাণ দিলারা জামান। তিনি পর্দার সেই মা, যিনি একই সাথে কঠোর আবার মমতাময়ী।সাধারণত শিক্ষিত, মার্জিত এবং বিচক্ষণ মায়ের চরিত্রে দিলারা জামান নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার বাচনভঙ্গি এবং ব্যক্তিত্ব দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সমকালীন নাটকে মায়ের চরিত্রে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তিনি যেমন সিরিয়াস চরিত্রে কাঁদাতে পারেন, তেমনি কমেডি চরিত্রে হাসাতেও পটু। হুমায়ূন আহমেদের নাটকের মাধ্যমে তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ তাকে শীর্ষস্থানীয় ‘মা’ চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের খুঁটিনাটি ঝগড়া, মান-অভিমান আর সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—সবটাতেই তিনি অনবদ্য।
এছাড়া শিল্পী সরকার অপু, ওয়াহিদা মল্লিক জলিও বর্তমানে মা চরিত্রে দারুণ ব্যস্ত এবং জনপ্রিয়, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে তারা মা চরিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন।
সময়ের বিবর্তনে নাটকের গল্প বদলেছে, কিন্তু ‘মা’ চরিত্রের আবেদন কমেনি এতটুকু—যেন পরিবারের খুঁটি হয়ে থাকা। পর্দায় দাপুটে এসব অভিনেত্রীদের মা হিসেবে দেখে বড় হওয়া সকলের কাছেই তারা যেন এক অন্য আবেগের গল্প হয়ে আছে।


