যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখন লাইফ সাপোর্টে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক স্লাইড

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ তথা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়’ আছে। কারণ যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা শুরুর শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

আজ সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির অবস্থা এমন, যেন একজন ডাক্তার এসে বলছেন, ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাবের জবাবে দেয়া ইরানের শান্তি প্রস্তাবের আরও একবার তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবকে ‘নির্বোধের মতো’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

ইরানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি নির্বোধের মতো প্রস্তাব এবং কেউই এটি গ্রহণ করবে না — যদিও ওবামা বা বাইডেন এটি গ্রহণ করতেন। তারা যা কেড়ে নিয়েছে তা ছিল আরও অনেক বেশি ভয়াবহ।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন,  ইরানের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের ১৫৯টি জাহাজ ছিল, এখন আর একটিও নেই। শুধু কয়েকটি ছোট স্পিডবোট বেড়াচ্ছে। এগুলোর মধ্যে থেকে আমরা একদিনে আটটি ধ্বংস করে দিয়েছি।

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। এতে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে। দাবির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের নিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রস্তাবের বিস্তারিত জানা না গেলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এতে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে।

আজ সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের জবাবে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি তুলেছে তেহরান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে।

পত্রিকাটি আরও জানায়, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ হালকা করতে চায়। বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে রাজি হলেও সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ বছরের চেয়ে কম সময়ের জন্য। তবে তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রস্তাব নাকচ করেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই জবাব বা পাল্টা প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রুথ সোশ্যালে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছি। এটা আমার পছন্দ হয়নি — একেবারেই অগ্রহণযোগ্য! এই বিষয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।’

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এখন অচলাবস্থায় পড়েছে। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *