বাংলাদেশে নির্বাচনে স্বচ্ছতা-বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিতে ইইউ মিশনের ১৯ সুপারিশ

জাতীয় স্লাইড

 

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা-বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ১৯টি সুপারিশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতি রেখে এসব সুপারিশের মধ্যে ছয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউইওএম) প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস এ তথ্য জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এর আগে এই সংসদ নির্বাচন নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মিশনটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের চোখে পড়েনি। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনগুলো আন্তর্জাতিক মানে করতে, আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা ১৯টি সুপারিশ করেছেন।

ইইউইওএমের উপস্থাপিত ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশের মধ্যে রয়েছে– নির্বাচনী আইনি কাঠামোর ব্যাপক সংশোধন, নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়নের কঠোর নিয়ম চালু করে তদারকি ব্যবস্থার প্রবর্তন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ধারা সংশোধন ও জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া, একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী সংস্কার সাধন, নির্বাচন কমিশনে ভোট গণনার সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া এবং অন্যান্য শ্রেণির ভোটারদের জন্য ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর এমন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল। ফলাফল প্রাথমিক ও চূড়ান্তভাবে প্রকাশ নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতার অভিযোগ ছিল না।

ইভার্স আরও বলেন, প্রার্থীরা স্বচ্ছভাবে প্রচারণা চালাতে পেরেছেন। যে কোনো রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। যখনই কোনো অভিযোগ এসেছে বা নির্বাচনকালীন কোনো সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সমাধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রার্থীরা স্বচ্ছভাবে প্রচার চালাতে পেরেছেন। যে কোনো রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সংলাপের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। নির্বাচনকালীন যখনই কোনো না কোনো অভিযোগ এসেছে বা সংকট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সমাধান করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে– সবাইকে এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইভার্স ইজাবস।

গত বছরের শেষ দিক থেকে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *