পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটি এবং ই-ভ্যাট সিস্টেমে আপগ্রেডেশনজনিত কারিগরি জটিলতার কারণে এপ্রিল মাসের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৬ তারিখ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন হিসেবে নির্ধারিত থাকে। তবে এবার বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারেননি। এর পাশাপাশি ই-ভ্যাট সিস্টেমে চলমান আপগ্রেডেশন কাজের কারণে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয়, যা অনলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে কিছুটা বিঘ্নিত করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি কমাতে এনবিআর এই সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কাস্টমস ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ই-ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, নিরাপদ এবং ব্যবহারবান্ধব করার লক্ষ্যে নিয়মিত আপগ্রেডেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে এসব আপগ্রেডেশনের সময় অস্থায়ীভাবে সিস্টেমের গতি কমে যাওয়া বা প্রবেশে সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে মাসের শেষ সময়ে যখন বিপুল সংখ্যক করদাতা একযোগে সিস্টেমে প্রবেশ করে রিটার্ন দাখিলের চেষ্টা করেন, তখন সার্ভারের ওপর চাপ বেড়ে গিয়ে সেবায় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
এ বিষয়ে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ বলেন, করদাতাদের স্বার্থ বিবেচনা করেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মার্চ ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন যাতে সবাই নির্বিঘ্নে জমা দিতে পারেন, সেজন্যই ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করার জন্যও তিনি আহ্বান জানান, যাতে শেষ মুহূর্তে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা, যারা সাধারণত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইন রিটার্ন জমা দিতে দেরিতে পড়েন, তারা এই অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়াকেও আরও সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, দেশে ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে এনবিআর ই-ভ্যাট সিস্টেম চালু করেছে, যার মাধ্যমে করদাতারা অনলাইনে সহজেই রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। তবে এ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে মাঝে মাঝে আপগ্রেডেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা সাময়িকভাবে সেবায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সার্বিকভাবে, করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


