জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে : বিশ্লেষকের সতর্কবার্তা

জ্বালানি সরবরাহে নজর রাখবে বিপিসির কন্ট্রোল সেল

অর্থনীতি স্লাইড

 

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ‘পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপিসির রোববার (৯ মার্চ) জারি করা এক আদেশে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিপিসি ও এর অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ গঠন করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেলের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে চালু হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন চালু থাকবে। ছুটির দিনেও এর কার্যক্রম চলবে এবং অফিস সময়ের বাইরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল চট্টগ্রামে বিপিসির বিএসসি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব এ কে এম ফজলুল হককে মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর বিকল্প কর্মকর্তা হিসেবে থাকছেন বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে উপব্যবস্থাপক খন্দকার সাজবীর রহমান।

এ ছাড়া বিপিসির আরেকটি পর্যবেক্ষণ কক্ষে মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশদে হোসাইন আজাদ মুখ্য সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষও গঠন করা হয়েছে। এসব কক্ষ ঢাকা, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আদেশে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের তেল ডিপোগুলোর পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা মজুদ প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে জানানো হবে।

দেশের সব তেল ডিপো থেকে নির্বিঘ্নে জ্বালানি তেল সরবরাহ বজায় রাখা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিপণন কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কৃষি সেচ মৌসুমে ডিলার ও এজেন্টদের কাছে সরবরাহ হওয়া জ্বালানি তেলের পরিমাণ ও বিক্রির তথ্য আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল থেকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জানানো হবে বলেও আদেশে বলা হয়েছে। এদিকে তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া যাবে। আর ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *