১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার জেরুজালেম সীমানা বৃদ্ধির উদ্যোগ ইসরায়েলের

১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার জেরুজালেম সীমানা বৃদ্ধির উদ্যোগ ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক স্পেশাল

 

ইসরায়েলি সরকার স্বাক্ষরিত একটি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো জেরুজালেমের সীমানা দখলকৃত পশ্চিম তীরে সম্প্রসারিত হবে বলে দেশটির কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা সতর্ক করেছে।

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে এবং পরে তা সংযুক্ত করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে।

ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে প্রকাশিত হলেও পরিকল্পনাটি সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে ধাপে ধাপে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব সামনে আসে।

সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাস্তবিক সংযুক্তিকরণ।

ইসরায়েলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরে জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গেভা বিনিয়ামিন, বা আদাম, বসতির পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়ন চুক্তির আওতায় বসতিটির জন্য প্রায় দুই হাজার ৭৮০টি আবাসন ইউনিট নির্মাণ এবং প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইসরায়েলি শেকেল (প্রায় তিন কোটি ৮৭ লাখ ডলার) বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে যে এলাকায় উন্নয়ন কাজ হবে তা ২০০০ সালের শুরুর দিকে ইসরায়েল নির্মিত বিভাজন প্রাচীরের জেরুজালেম-সংলগ্ন অংশে অবস্থিত, আর গেভা বিনিয়ামিন প্রাচীরের পশ্চিম তীর অংশে অবস্থিত; দুটির মধ্যে একটি সড়ক দ্বারা বিভক্ত।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাউ জানায়, উন্নয়নাধীন এলাকা ও বসতির মধ্যে কোনো ‘ভৌগোলিক বা কার্যগত সংযোগ’ থাকবে না।

পিস নাউয়ের নির্বাহী পরিচালক লিয়র আমিহাই এএফপিকে বলেন, ‘নতুন পাড়াটি জেরুজালেম শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর বিশেষ দিক হলো এটি সরাসরি জেরুজালেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, তবে সংযুক্ত ঘোষিত পৌরসীমার বাইরে থাকবে।

অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণভাবে পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডে হবে, কিন্তু জেরুজালেমের ঠিক সংলগ্ন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *