ধৈর্য ঈমানের মুকুট

ধৈর্য ঈমানের মুকুট

ধর্ম স্পেশাল

 

মহান আল্লাহ মানুষকে যে নিয়ামতগুলো দান করেন, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সবর (ধৈর্য)। এ ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দাকে ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও বিস্তৃত কোনো নিয়ামত দেওয়া হয়নি।’

(সহিহুল জামি, হাদিস : ৫৬২৬)

হাদিস ব্যাখ্যাকারদের মতে, ধৈর্য হলো ঈমানের মুকুট। যে মুমিন অধিক ধৈর্যশীল, সে আল্লাহর নৈকট্যে অগ্রগামী।

ধৈর্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক; বান্দা নিজের চেষ্টায় পূর্ণ ধৈর্য অর্জন করতে পারে না। কারণ মানুষ নিজেকে ধৈর্য ধরতে বাধ্য করে। যখন সে নিজেকে ধৈর্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে, তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণাঙ্গ সবর বা ধৈর্য দান করেন। হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ধৈর্য কামনা করবে, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।

(আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৪৪)

ধৈর্য এমন এক নিয়ামত, যার দ্বারা সব কল্যাণ অর্জন সহজ হয়, পাপ বর্জন সহজ হয় এবং নির্ধারিত কষ্ট সহ্য করা সম্ভব হয়। এখানে রিজিক বলতে দ্বিন ও ঈমানের রিজিক বোঝানো হয়েছে।

মহানবী (সা.) এই গুণের অধিকারীকে ভাগ্যবান বলে আখ্যা দিয়েছেন। মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে ওই ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে; ওই ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে, ওই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে।

আর যে ব্যক্তি ফিতনাগ্রস্ত হওয়ার পর সবর করবে, সে খুবই ভাগ্যবান।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৬৩)

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধৈর্যকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো এবং সর্বদা আল্লাহর পথে প্রস্তুত থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২০০)

হাদিসে ধৈর্যকে ঈমান বা ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬)

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী ধৈর্যের তিনটি শাখা রয়েছে, এক. নফসকে হারাম ও নাজায়েজ বিষয়াদি থেকে বিরত রাখা।

দুই. ইবাদত ও আনুগত্যে বাধ্য করা এবং তিন. যেকোনো বিপদ ও সংকটে ধৈর্যধারণ করা।

অর্থাৎ যেসব বিপদ-আপদ এসে উপস্থিত হয় সেগুলোকে আল্লাহর সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেওয়া এবং এর বিনিময়ে আল্লাহর তরফ থেকে প্রতিদান প্রাপ্তির আশা করা। অবশ্য কষ্টে পড়ে যদি মুখ থেকে কোনো কাতর শব্দ উচ্চারিত হয়ে যায় কিংবা অন্যের কাছে তা প্রকাশ করা হয়, তবে তা সবরের (ধৈর্যের) পরিপন্থী নয়। (ইবনে কাসির)

তাই মুমিনের উচিত ধৈর্যশীলতা অর্জনের চেষ্টা করা। ধৈর্যশীলতা এমন একটি কল্যাণকর গুণ। এটি অর্জন করতে প্রবল ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। সঙ্গে প্রয়োজন দৃঢ় ঈমান। কারণ কোনো মানুষের মধ্যে দৃঢ়তা না থাকলে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি না থাকলে সে ধৈর্যশীল হতে পারবে না। রাসুল (সা.) একবার আনসারদের কিছু লোককে বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে তিনি (আল্লাহ) তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কখনো তোমাদের দান করা হবে না।’

(বুখারি, হাদিস : ৬৪৭০)

ধৈর্যশীলতা অর্জন করা যত কঠিন, এর পুরস্কারও তত বড়। মানুষের জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতি আসাটা স্বাভাবিক। যারা তখন আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ তাদের অগণিত পুরস্কারে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো! হে আমার মুমিন বান্দারা, যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।’ (সুরা : আজ-জুমার, আয়াত : ১০)

মহান আল্লাহ সবাইকে ধৈর্যশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *