উষ্কখুষ্ক চুল, ময়লায় ভেজা মুখ আর অযত্নে পরা পোশাক—এক নজরে দেখলে পথের ধারে বসে থাকা কোনো অসহায় নারীকেই মনে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঠিক এমন বিভ্রান্তিই তৈরি করেছিল। অনেকেই ভিডিওটি দেখে ধরে নিয়েছিলেন, এটি কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর দৃশ্য। কিন্তু ভিডিওটি একটু এগোতেই ফ্রেমে হাজির হন অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান।

এই দৃশ্যের পেছনের গল্প জানতে গিয়ে জানা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি নাটকের শুটিংয়ের অংশ। আসন্ন নাটক ‘বাতাসের ফুল’-এর দৃশ্য এটি।
এই নাটকে কেয়া পায়েলের চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলোর একটি। ভবঘুরে ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এক নারীর মনস্তত্ত্ব পর্দায় তুলে ধরা সহজ কাজ নয়।
জোভানের মতে, পায়েল সেই কঠিন জায়গাটিই অনায়াসে পার করেছেন। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করেনি, দর্শকের মনেও প্রশ্ন তৈরি করেছে—মানুষ কত সহজেই কাউকে দেখে বিচার করে ফেলে।
‘বাতাসের ফুল’ শুধু দুজন মানুষের প্রেমের গল্প নয়, এটি আসলে একটি যাত্রার গল্প—ভালোবাসা থেকে ভাঙন, ভাঙন থেকে আত্মঅন্বেষণের পথচলা। এই ভিন্নধর্মী গল্পের জন্যই নতুন পরিচালক ফরহাদ ঈশানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হন জোভান।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এখন গল্প বাছাইয়ে আরও সচেতন। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন শিল্পীর নিজের ভেতরেও পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের প্রতি আস্থার কথাও জানান জোভান। তিনি বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে মোটামুটি অনেকটা সময়ই তো পার করেছি। এখন মনে হয় যে, কিছু এক্সপেরিমেন্ট করা দরকার এবং সেটাই করছি। নতুনদের সঙ্গে কাজ করা উচিত। নতুন কো-আর্টিস্ট বা নতুন নায়িকাদের সাথেও কাজ করি অনেক সময়। নতুন ডিরেক্টরদের সঙ্গেও কাজ করা উচিত, যাদের মধ্যে প্রমিসিং একটা ব্যাপার আছে। এখন থেকে নতুনদের সঙ্গে কাজ করব।’
জোভান আরো বলেন, ‘ঈশানের সঙ্গে প্রথম কাজ। ও যে গল্পটা নিয়ে আমার কাছে এসেছে, তা দারুণ। ওকে বেশ প্রমিসিং মনে হয়েছে। এছাড়াও নতুন আরও বেশ কয়েকজন আছে যেমন- সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি, মীর আরমান, তারেক রহমান, মাশরিক। এরকম নতুন নতুন আরো প্রমিসিং পরিচালক দরকার আছে।’
প্রসঙ্গত, জি সিরিজ প্রযোজিত ‘বাতাসের ফুল’ নাটকটি খুব শিগগিরই প্রচারে আসবে বলে জানা গেছে।

