পাকিস্তানে পৃথক অভিযানে ১২ সন্ত্রাসী নিহত

আন্তর্জাতিক স্লাইড

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে ও গোলাগুলিতে অন্তত ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এদিকে প্রদেশের অন্য স্থানে সহিংসতায় কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) দুই সদস্য মারা গেছেন।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুটি পৃথক অভিযান চালানো হয়।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চালানো প্রথম অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হন।

অপর অভিযানটি কুররম জেলায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়, সেখানে পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হন।আইএসপিআর আরো জানিয়েছে, নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই ‘ভারত সমর্থিত খারিজি’ গোষ্ঠীর সদস্য। এর আগে গোষ্ঠীটি নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে খাইবার জেলার মালাগোরি এলাকায় গোলাগুলিতে এক সন্ত্রাসী নিহত, একজন আহত এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন পত্রিকাকে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা খুনাররি বাঁধের কাছে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা একটি দল দেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেন। পরে স্থানীয় সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গানশিপ হেলিকপ্টার ও আর্টিলারিও ব্যবহার করা হয়।এই সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুইজন চোখ বাঁধা সন্দেহভাজনকে জনতার সামনে আটক রাখা হয়েছে। এ সময় এক সেনা কর্মকর্তা স্থানীয়দের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালাগোরি এলাকায় এই প্রথম বড় ধরনের সংঘর্ষ হলো। এই এলাকায় ওয়ারসাক বাঁধে চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা রক্ষণাবেক্ষণ ও সেচখাল নির্মাণকাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

অন্যদিকে পেশোয়ারের রেগি থানাধীন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে সিটিডির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সদস্যের নাম সানাউল্লাহ। ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।

এ ছাড়া বাজাউর জেলার ওয়ার মামুন্দ তহসিলে সাইফুর রহমান (৪০) নামে আরেক সিটিডি সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *