বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা দলে ‘অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব’

খেলা স্পেশাল

 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া শিরোপা উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তিনি প্রায়ই বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিলিপি নিয়ে প্রকাশ্যে হাজির হতেন এবং সমর্থকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পেতেন।

অনেকের মতে, লিওনেল স্কালোনিকে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ অবস্থায় কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্তও আর্জেন্টিনার ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বর্তমান সময়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলের পরিবেশ ভিন্ন। তাপিয়া এখন একাধিক বিতর্ক ও সংকটে জড়িয়েছেন, যা পুরো ফুটবল অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত, ঘরোয়া লিগে অজনপ্রিয় পরিবর্তন এবং দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মতো অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে জনমতও ধীরে ধীরে তার বিপক্ষে যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সঙ্গে ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলাও হয়েছে, যেখানে দোষী প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে। একই সময়ে এক প্রীতি ম্যাচে মাঠে তাকে দর্শকদের বিদ্রূপের মুখেও পড়তে হয়।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এসব বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখছেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল বলেছেন, খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে জড়াতে চান না।

এদিকে তাপিয়া ও মেসির সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা চলছে, কারণ আগের মতো তাদের ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ সামাজিক মাধ্যমে কম দেখা যাচ্ছে। মেসিও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল থেকে ফিরে কোনো বক্তব্য দেননি।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মিলের বেসরকারিকরণ নীতির বিরোধিতা করছে এএফএ, যা দুই পক্ষের দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। কিছু ক্লাব এএফএ-এর কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে সরে গেছে এবং সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সংকট সবসময় মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে এমনও না। আর্জেন্টিনা এখনো বিশ্বকাপ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে।

সব মিলিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে চ্যালেঞ্জ থাকলেও খেলোয়াড়দের আহ্বান একটাই—ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করা।

প্রতিবেদন: এপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *