জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.২২ শতাংশ

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি দুই দিন স্থগিত

অর্থনীতি স্লাইড

 

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, নৌপরিবহন উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোববার থেকে আবার কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করা হবে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে কর্মসূচি স্থগিতের এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এর আগে তাঁরা শনিবার থেকে টানা তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। এ সময় বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং কর্মচারীদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আন্দোলন কর্মসূচি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমরা চারটি দাবি জানিয়েছি। এই চারটি হলো নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডকে দেওয়া যাবে না। কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগও দাবি করেছি।’ ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে তিনি (উপদেষ্টা) উচ্চপর্যায়ে আলাপ করার কথা বলেছেন। বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এ জন্য আমরা শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শনিবারের মধ্যে যদি কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে রোববার থেকে কর্মসূচি আবার চলবে।’

শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া লাগাতার কর্মবিরতিতে পুরো বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন। এ সময় বন্দরের চার নম্বর গেটের বাইরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরে বিকেলে বন্দর ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।

বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রোজার আগে বন্দর বন্ধ রেখে এ ধরনের আন্দোলন অত্যন্ত অমানবিক। তিনি বলেন, বন্দর বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারও নেই এবং এতে বাধা সৃষ্টি হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবে। তাঁর ভাষ্য, আগামীকাল সকাল থেকে বন্দর সচল না হলে সরকার পরিস্থিতি ভিন্নভাবে বিবেচনা করবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের চুক্তি প্রসঙ্গে নৌ উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিটি হয়তো ঠেকানো যাবে না, তবে দেশের স্বার্থের ক্ষতি করে কোনো চুক্তি করা হবে না। ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *