ভ্যাট নিবন্ধনে এনবিআরের বড় সাফল্য: এক মাসেই যুক্ত ১.৩১ লাখ প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতি স্লাইড

দেশের রাজস্ব আহরণে গতি ফেরাতে এবং করের আওতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির বিশেষ ক্যাম্পেইনের ফলে সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসেই নতুন করে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১ লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান। এর ফলে দেশে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজারে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এনবিআর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে নিবিড় জরিপ এবং প্রযুক্তিবান্ধব সংস্কারের কারণেই এত বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

বিশেষ ক্যাম্পেইন ও মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ জানান, গত ডিসেম্বর মাসে দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও বিশেষ ক্যাম্পেইন ও জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০–১৫ ডিসেম্বর ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ পালনকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর ১০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেই মূলত ১ লাখ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বড় উল্লম্ফন

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এবং বিশেষ করে ডিসেম্বরের বিশেষ ড্রাইভের ফলে এই সংখ্যা এখন ৭ লাখ ৭৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে নিবন্ধনের সংখ্যায় ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন ও নীতিমালায় সংস্কার

এনবিআর জানিয়েছে, ভ্যাট নিবন্ধন সহজীকরণ এবং ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান ভ্যাট আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো:

  • বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের সীমা পরিবর্তন: আগে বাৎসরিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকা হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল। বর্তমানে এই সীমা কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে অনেক মাঝারি ও বড় পরিসরের ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান এখন ভ্যাট জালের আওতায় এসেছে।
  • অনলাইন রিটার্ন ও রিফান্ড: ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া যাচ্ছে। এছাড়া যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভ্যাট পরিশোধ করে, তবে তা অটোমেটেড পদ্ধতিতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ নিয়ম: ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভীতি দূর করতে তাদের জন্য সহজবোধ্য ভ্যাট রিটার্ন ফরম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ভ্যাটের গুরুত্ব

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, মোট সংগৃহীত শুল্ক, আয়কর এবং ভ্যাটের মধ্যে বর্তমানে ভ্যাট থেকেই সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জিত হচ্ছে। গত অর্থবছরে মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশ এসেছে ভ্যাট থেকে। কর ফাঁকি রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনবিআর এখন শতভাগ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে এবং এনবিআর যদি তাদের সঠিক তদারকির আওতায় রাখতে পারে, তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেক সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *