‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, না হলে ব্যবস্থা’

জাতীয় স্লাইড

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্থান পরিষ্কার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রেস উইং সূত্র জানায়, ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার রাজধানীতে কুরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম যথাযথভাবে চলছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতে মাঠে নামেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে কুরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর কুরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে হচ্ছে কিনা- তা দেখতে বেরিয়েছেন তিনি। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে যান।

এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাই খাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত সড়ক দিয়ে নয়া বাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে নিউ মার্কেট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী দেখেন।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সিগন্যাল মেনে গাড়ি থামিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কুরবানির পশু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে বেরিয়েছিলেন। তিনি কয়েকটি স্থানে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোডে এবং গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ানবাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লা জমে থাকায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসককে তাঁর বাসার সামনে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তিনি আমাদের গাড়িগুলো ছেড়ে দিতে বলেন এবং তার গাড়িতে আমাদের উঠিয়ে নেন। প্রধানমন্ত্রী কেন ডেকেছেন বা কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে আমাদের কোনো পূর্বধারণা ছিল না। পরে দেখা যায়, তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখতে বের হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩০ ও ৩১ মে (শনিবার ও রোববার) এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমের আগে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না বলে  প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম গাড়িতে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *