গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফেরত আনতে বিশ্বের ১০টি দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি দেশ সম্মতি জানিয়েছে এবং বাকি সাতটির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ ও অঞ্চলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং। তিনি সংসদকে জানান, এই দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদার করার কাজ চলছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া বা সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গেও প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি সম্পাদন এবং এ–সংক্রান্ত অনুরোধ বিনিময়ের মাধ্যমে তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিগত সরকারের সময়কার অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে ১১টি বড় মামলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব মামলার তদন্ত ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি, এনবিআর এবং শুল্ক গোয়েন্দার সমন্বয়ে ১১টি বিশেষ ‘যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল’ (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। অতীতের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইন মেনে এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার মাধ্যমেই পাচার হওয়া জনগণের প্রতিটি টাকা উদ্ধার করা হবে। সংসদে উত্থাপিত তথ্যানুযায়ী, পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।


