‘নারীদের ঘরে আটকে রাখব এত তালা কেনার টাকা নেই’

রাজনীতি স্লাইড

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে প্রতিটি সক্ষম পুরুষ ও নারীর হাতে মর্যাদার কাজ থাকবে। নারীদের ঘরে আটকে রাখার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের এত তালা কেনার টাকাই নেই যে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখব।’

নির্বাচনী গণসংযোগে সারা দেশ সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার কুষ্টিয়াসহ চার জেলা সফর করেন জামায়াতের আমির।

দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতের সঙ্গে একীভূত ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশেষ করে যুবক-যুবতিদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় জামায়াত। বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাব্যবস্থা হবে কর্মমুখী ও মানবিক, যাতে মেধাসম্পন্ন জাতি গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে—রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক কিংবা পথচারী ভিক্ষুকের ক্ষেত্রেও একই বিচার নিশ্চিত করা হবে। কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনসে অবতরণ করেন।

চুয়াডাঙ্গা : গতকাল বিকেল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘৫ আগস্ট ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে বিপ্লব, আর আসছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ১১ দলের ঐক্যের মাধ্যমে জনগণ দুর্নীতি, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দেবে। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এমন আচরণ করা হচ্ছে।

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণরা পুরনো ও ব্যর্থ রাজনীতি আর দেখতে চায় না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে এবং কেউ সম্পদের পাহাড় গড়তে পারবে না। জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াত ও শরিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

মেহেরপুর : গতকাল দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কেউ চাঁদাবাজিতে জড়াতে বাধ্য না হয়।

জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘বেকার ভাতা দিয়ে নয়, সম্মানের কাজ দিয়েই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।’ ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জনসভা শেষে জামায়াত আমির মেহেরপুরের দুই আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। জনসভায় জামায়াত ও শরিক দলগুলোর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

ঝিনাইদহ : জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেছেন, ‘আমাদের যুবকরা বেকার ভাতা চায় না। আমরাও বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমানিত করতে চাই না। তারা দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ চায়। আমরা কথা দিচ্ছি, প্রত্যেক যুবকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে।’

গতকাল সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিরে জামায়াত বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য এমন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, যেখানে আপনাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম আপনাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস পাবে না। আর যদি তাকায়, তার চোখ তুলে ফেলা হবে। মা-বোনরা আমাদের ইজ্জতের গর্বের ঠিকানা। তাদের ইজ্জত নিয়ে যারা টানাটানি করবে, অসুরের চোখ দিয়ে তাকাবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। ১১টি দল এক হয়েছি দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য। মানুষ কষ্ট করে কাজ করে খায়, আর এক শ্রেণির লোক গিয়ে তাদের কাছে চাঁদা চায়। তাদের সতর্ক করে বলছি, এগুলো ছেড়ে দিয়ে হালাল রুজির ব্যবস্থা করো। প্রয়োজনে ভিক্ষা করো, তবু কারো কাছে চাঁদা চাওয়ার দরকার নেই। ভিক্ষা করা হারাম নয়, চাঁদা চাওয়া হারাম। তাই হারাম ছেড়ে দাও।’

বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির ঝিনাইদহের চারটি আসনের দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *