২৯তম বিসিএসে জালিয়াতি: ২১ জনের নামে দুদকের মামলা

জাতীয় স্লাইড

 

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করেও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৯তম বিসিএসে ছয়জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ২৯তম বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ছয়জন প্রার্থীকে অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা ও সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে রয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর উপসচিব রকিবুর রহমান খান, জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার ও উপসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন-এর উপসচিব নাহিদা বারিক। এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) মো. মিল্টন আলী বিশ্বাস এবং পুলিশ ক্যাডারে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির ৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৬ এপিবিএন)-এর পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম রয়েছেন।

এই ছয়জনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্য, সাবেক সচিব, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাসহ আরও ১৫ জনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- পিএসসির সাবেক সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, পিএসসির সাবেক সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী, মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান, মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত, সৈয়দ হাসিমুর রহমান, মির্জা শামসুজ্জামান, অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, এহসান শামীম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদুর রেজা খান, অধ্যাপক রাশিদা বেগম, অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, ইকরাম আহমেদ ও প্রফেসর ডা. ফরিদা আদিব খানম। এ ছাড়া সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ.ই.ম নেছার উদ্দিন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সহকারী সচিব মো. লোকমান আহমদকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় পৃথক ছয়টি নিয়মিত মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান টিমের দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতেই কমিশন এই মামলাগুলো দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *