দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ

লাইফস্টাইল স্পেশাল

যারা জীবিকার তাগিদে দিনের দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ দিচ্ছে সাম্প্রতিক এক চিকিৎসা গবেষণা।

একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কেবল শরীরের ব্যথা বা আড়ষ্টতা নয়, বরং স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বসে থাকা ধূমপান বা স্থূলতার মতোই অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

টানা আট ঘণ্টা বা তার বেশি বসে থাকলে শরীরে যেসব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে: 

কোলেস্টেরল ও বিএমআই বৃদ্ধি: দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং শরীরের ওজন ও উচ্চতার ভারসাম্য নষ্ট করে।

মাংসপেশির জটিলতা: ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কোমরে ব্যথা এবং নিতম্বের পেশি সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

মানসিক অবসাদ: দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও সৃজনশীলতা হ্রাস পায়।

কর্মক্ষেত্রকে স্বাস্থ্যবান্ধব করার উপায় 

অফিসে নিজের ডেস্ক ও চেয়ারকে শরীরের উপযোগী করে সাজিয়ে নেওয়া জরুরি:

১. সঠিক অঙ্গভঙ্গি: চেয়ার, টেবিল এবং কম্পিউটারের উচ্চতা এমনভাবে নির্ধারণ করুন যেন মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং হাতের অবস্থান আরামদায়ক হয়।

২. হেডসেট ব্যবহার: ফোনে কথা বলার সময় ঘাড় বাঁকা না করে হেডসেট ব্যবহার করা উচিত।

৩. বিকল্প আসবাব: সাধারণ চেয়ারের বদলে মাঝে মধ্যে ‘এক্সারসাইজ বল’ ব্যবহার করলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে। এছাড়া ‘স্ট্যান্ডিং ডেস্ক’ বা দাঁড়িয়ে কাজ করার টেবিল ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

ডেস্কে বসেই ছোটখাটো ব্যায়াম 

কাজের ফাঁকে প্রতি এক ঘণ্টায় অন্তত একবার বিরতি নিয়ে নিচের সহজ ব্যায়ামগুলো করা যেতে পারে:

স্ট্রেচিং: ঘাড় ও কাঁধের আড়ষ্টতা কাটাতে দুই পাশে ঘাড় হেলানো এবং হাত পেছনে নিয়ে বুক প্রসারিত করার ব্যায়াম করা।

স্কোয়াট ও পুশ-আপ: ডেস্কের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকবার হাঁটু ভাঁজ করে বসা অথবা দেয়ালের সাহায্যে পুশ-আপ দেওয়া।

স্পাইনাল টুইস্ট: চেয়ারে বসেই শরীরের উপরের অংশ ডানে-বামে ঘোরানো।

পায়ের ব্যায়াম: গোড়ালি ওপরের দিকে তোলা এবং নামানো।

সক্রিয় থাকার আরও কিছু কৌশল 

শরীরকে সচল রাখতে জিম বা মাঠের প্রয়োজন নেই, অফিসের ভেতরই কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব:

লিফটের বদলে সিঁড়ি: নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।

সহকর্মীর কাছে হেঁটে যাওয়া: ইন্টারকম বা ফোনে কথা না বলে সরাসরি সহকর্মীর ডেস্কে গিয়ে কথা বলুন।

হাঁটতে হাঁটতে মিটিং: সম্ভব হলে কনফারেন্স রুমে না বসে সহকর্মীদের নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জরুরি আলোচনা সারুন।

লাঞ্চ ব্রেকে হাঁটা: মধ্যাহ্নভোজের পর মোবাইলে সময় না কাটিয়ে খোলা বাতাসে ১০-১৫ মিনিট হাঁটুন।

বিশেষজ্ঞের অভিমত: 

কাজের ফাঁকে এই ছোট ছোট বিরতিগুলো কেবল শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং আপনার উৎপাদনশীলতা এবং মনোযোগ বাড়াতেও সাহায্য করে। শরীর সচল থাকলে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে, যা কাজের চাপের মধ্যেও আপনাকে চনমনে রাখবে।

সূত্র: ইউসিএলএ হেলথ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *