চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তা সাঈদ আহমেদ চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন পর বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বেল্লাল হোসেন, ডালিম মল্লিক, কামরুর সিকদার, আল আমিন, পনু ব্যাপারী ও মো. হোসেন। এর মধ্যে রায় ঘোষণার সময় চারজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে পনু ব্যাপারী ও মো. হোসেন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত আসামিদের রায় ঘোষণার পরপরই কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদির ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটিকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে আদালত মন্তব্য করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার অংকুর স্কুল মাঠ এলাকা থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা সাঈদ আহমেদ চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার ইঙ্গিত দেয়। ঘটনাটি তৎকালীন সময়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মঈন উদ্দিন সাঈদ চৌধুরী বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আসামিদের শনাক্ত করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অবশেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
রায় ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পুরোনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকর করা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


