ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দামে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গত সপ্তাহান্তে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা করছিল, এই আলোচনার মাধ্যমে অন্তত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমানোর পথ তৈরি হতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
এই অনিশ্চয়তার জেরে রোববার আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জিএমটি সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান দাম যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। ফলে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আপাতত যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তাকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বাজারে সক্রিয় রয়েছেন। এর ফলে বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি, বরং বেশ কয়েকটি সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ সকালের লেনদেনে প্রায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এই আচরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা এখনো আশাবাদী যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা এক ধরনের ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ কৌশল গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ তারা পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট অগ্রগতি না দেখা পর্যন্ত বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নন। তবুও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা স্থগিত হওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন খরচ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।


