স্বর্গীয় নির্জনতায় ইতালির ৬ বুনো সৈকত

ফিচার স্পেশাল

 

ইতালির উপকূলজুড়ে বেসরকারি বিচ ক্লাব বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সৈকতের দাপট চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এর ভিড়েও এমন কিছু সৈকত রয়েছে, যা আজও তার আদিম প্রাকৃতিক রূপ ধরে রেখেছে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। ইতালিতে বসবাসরত একজন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের চোখে দেশটির সেরা ছয়টি উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের কথা তুলে ধরা হলো এখানে।

১. রিভিয়েরা দেল কোনেরো, মার্চে

মার্চে অঞ্চলের অমূল্য রত্ন বলা হয় এ সৈকতটিকে। গণপর্যটনের ছোঁয়া এখানে খুব একটা লাগেনি। পাইন গাছে ঘেরা চুনাপাথরের পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ সৈকতের নীল-সবুজ স্বচ্ছ পানি আর সাদা নুড়ি পাথর যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে। এখানকার ‘সিরোলো’ সৈকতটি বেশ দীর্ঘ এবং প্রাকৃতিক। এছাড়া ‘পোর্তোনোভো বে’-তে ষাটের দশকের আমেজ পাওয়া যায়। ১৯৫০ সাল থেকে পরিচিত ‘রিস্তোরান্তে এমিলিয়া’-তে বসে ঝিনুক দিয়ে তৈরি স্প্যাগেটি খাওয়ার অভিজ্ঞতা ভোলার মতো নয়।

থাকা: সিরোলোতে সান মিশেল রিলে অ্যান্ড স্পা-তে রাতপ্রতি খরচ ১০৮ ইউরো থেকে শুরু।

২. গারগানো, পুগলিয়া

পুগলিয়ার দক্ষিণভাগের সৈকতগুলো পর্যটকদের কাছে পরিচিত হলেও উত্তরের গারগানো উপদ্বীপটি অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে। গারগানো ন্যাশনাল পার্কের অংশ এ এলাকাটি পাথুরে খাঁড়ি আর জলপাই বাগানে ঘেরা। এখানকার ‘পোর্তোগ্রেকো’ একটি ছোট্ট সৈকত, যা সমুদ্রের গুহা দিয়ে ঘেরা। ডাইভিং এবং স্নরকেলিংয়ের জন্য এটি সেরা জায়গা। অন্যদিকে ‘ভিগনানোতিকা’ সৈকতের পেছনে থাকা বিশাল চুনাপাথরের পাহাড় গ্রীষ্মের বিকেলেও সৈকতে শীতল ছায়া দেয়।

উল্লেখ্য, স্নরকেলিং হলো- পানির নিচে লুকিয়ে থাকা রঙিন মাছ আর প্রবাল প্রাচীরের বিস্ময়কর জগতকে খুব কাছ থেকে দেখার এক জনপ্রিয় পদ্ধ। এটি মূলত পানির উপরিভাগে উপুড় হয়ে ভেসে সাঁতার কাটার একটি কৌশল।

৩. পোনজা, লাজিও

রোমবাসীদের পছন্দের এ দ্বীপে মূল ভূখণ্ড থেকে ফেরিতে করে সহজেই যাওয়া যায়। দ্বীপের দীর্ঘতম সৈকত ‘ফ্রনতোন’-এ যাওয়ার জন্য রয়েছে ওয়াটার ট্যাক্সি। এছাড়া ‘চিয়াইয়া দি লুনা’র মতো সৈকতগুলোতে যেতে হলে নৌকা ভাড়া করতে হবে। সৈকত ভ্রমণের ফাঁকে ‘রিস্তোরো দা জেরার্দো’ রেস্তোরাঁয় বসে অক্টোপাস স্টু এবং টাটকা ডুমুরের মিষ্টান্ন ট্রাই করা যেতে পারে।

থাকা: হোটেল চিয়াইয়া দি লুনা-তে থাকার খরচ ১১৫ ইউরো থেকে শুরু।

৪. পান্তেলেরিয়া, সিসিলি

সিসিলির চেয়ে তিউনিসিয়ার বেশি কাছে অবস্থিত এ দ্বীপটি যেন মূল ইতালি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এখানে কোনো বালুকাময় সৈকত নেই; পর্যটক ও স্থানীয়রা আগ্নেয় শিলা বা পাথরের ওপর তোয়ালে বিছিয়ে রোদে পোড়ান এবং নীল পানিতে ডুব দেন। ‘বালাতা দেই তুর্কি’ এলাকাটি স্নরকেলিংয়ের জন্য আদর্শ। এখানকার ‘লাগেত্তো দেলে অনদিনে’ এলাকাটি আগ্নেয়গিরি তপ্ত পাথরের মাঝে সুইমিং পুলের মতো শান্ত এক প্রাকৃতিক জলাধার।

৫. এলবা, টাস্কানি

টাস্কান দ্বীপপুঞ্জের অংশ এলবা তার স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত। ইতালির বাইরে এটি খুব একটা পরিচিত না হলেও এর ৯০ মাইল দীর্ঘ উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে আছে ছোট ছোট বুনো সৈকত। ‘নিস্পোর্তো’ একটি শান্ত ও নির্মল সৈকত, যা পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য চমৎকার। স্বচ্ছ পানির নিচের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য দেখতে এখানে স্নরকেলিং করা যায়।

থাকা: নিস্পোর্তোতে রেসিডেন্স লা কোটা কুইন্টা-তে রাতপ্রতি খরচ প্রায় ৮০ ইউরো।

৬. মারেম্মা, টাস্কানি

গ্রোসেটো শহরের ঠিক বাইরেই মারেম্মার আঞ্চলিক পার্ক। এখানক সৈকতগুলোতে নেই কোনো ছাতা, বার বা বিচ ক্লাব। আদিম বালুকাময় সৈকতে কেবল পড়ে থাকা কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট অস্থায়ী ছাউনি দেখা যায়। ‘মেরিনা দি আলবেরেসে’ এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকত। সাইকেল ভাড়া করে বুনো ঘোড়া আর মারেম্মা গরু দেখতে দেখতে সৈকতে ঘুরে বেড়ানো যায়। এখানকার স্থানীয় ডেইরি ফার্ম ‘লা মারেম্মানা’র মহিষের দুধের মোজারেলা চিজ বিখ্যাত।

থাকা: আলবেরেসে এগ্রিতুরিসমো ইল মেলোগ্রানো দি বান্দিতেল্লা-তে খরচ ১২০ ইউরো থেকে শুরু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *