স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

জাতীয় স্লাইড

 

চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনছে তারা। প্রতীক তালিকায়ও রদবদল আনা হচ্ছে।

বিধিমালায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি বিষয় আছে। এ ছাড়া আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল– ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও ইভিএম ও পোস্টারের ব্যবহার থাকবে না। এসব বিধান সংশোধিত বিধিমালায় যুক্ত হবে।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধন করে নির্দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রতীক বিধিমালায়ও সংশোধনী আনা হচ্ছে। এতে প্রতীক তালিকায় রদবদল আসছে।

ইসি সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকারের ভোটের প্রস্তুতিপর্বের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট বিধিমালাগুলো সংশোধনের কাজে হাত দিয়েছে ইসি। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদকে প্রধান করে ইসি গঠিত এ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি গত ১৩ মে প্রথম দফার বৈঠক করেছে। বৈঠকে বিধিমালায় কী কী সংশোধনী আনা যায়– সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ বা প্রস্তাব দিতে বলা হয়।

যদিও আগেই ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনীর খসড়া তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজও শুরু করেছেন কর্তকর্তারা।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশনা দেন। নাসির উদ্দিন কমিশনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে– এমন বার্তা দিয়ে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মান বজায় রাখতে হবে।

যেসব পরিবর্তন বিধিমালায়

বিধিমালা সংশোধন করে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ ছাড়া আইন সংশোধনের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের ১ শতাংশের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধানটিও বাদ দেওয়ার চিন্তা করছে তারা।

ইসি সূত্র বলছে, আইন পরিবর্তনের কারণেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটারের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধান বাদ দিতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে; অনেকে অহেতুক বা ‘ডামি’ প্রার্থীও হতে পারেন। এতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতা ও চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে; যাতে প্রার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কমিয়ে আনা যায়।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও বিধিমালা সংশোধনে ইসি গঠিত কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন, ‘বিধিমালা এবং আচরণবিধি সংশোধন নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে কী ধরনের সংশোধন করা হবে বা প্রয়োজনীয়তা আছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর আলোচনা করে একটি খসড়া তৈরি করা হবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।’

প্রতীক তালিকায় রদবদল হচ্ছে 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নতুন আইনে নির্দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কারণে নির্বাচনী প্রতীক বিধিমালায়ও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনে নির্ধারিত দলীয় প্রতীকগুলো স্থানীয় সরকার থেকে বাদ দিতে হবে। তাই ইসি থেকে স্থানীয় সরকার প্রতীক বিধিমালা সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রতীক বিধিমালায় সংশোধনী এনে প্রতীক সংখ্যা ৬৯টি থেকে ১১৯টিতে উন্নীত করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৩টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এবং ৫৬টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। সংসদ নির্বাচনের জন্য যুক্ত নতুন প্রতীকগুলোর বেশির ভাগ স্থানীয় সরকারের প্রতীক তালিকা থেকে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কিছু প্রতীক বাদ দিয়ে নতুন কিছু যুক্ত করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায় কিছুটা শূন্যতা দেখা দেয়। সেই শূন্যতা পূরণে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ইসি।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন পরিবর্তন হয়েছে, সেই কারণেই প্রতীক তালিকায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। এ নিয়ে ইসি কাজ করছে। কমিশনের অনুমোদন ও সিদ্ধান্তে সবকিছু চূড়ান্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *